২৬ অক্টোবর ২০১১ - ২০:৩০

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্যে আয়োজিত এক সভায়, গোপন অভিযানে ইরানি কর্মকর্তাদেরকে হত্যার প্রস্তাব দিয়েছেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদ আহমাদি নেজাদ ‘গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি মার্কিন সরকার ও তার দোসরদের সংস্কৃতি’ বলে আখ্যায়িত করার কিছুদিন পার না হতে হতেই তার কথার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে এবং তার কথা মার্কিন কংগ্রেসের প্রকাশ্য সভায় স্পষ্প প্রমাণিত হয়েছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের উপর আরোপিত অভিযোগের জবাবে বলেছেন যে, টেরর সংস্কৃতি যুক্তরাষ্ট্রের এবং অসভ্যদের অসভ্যদের, ইরানি জাতির সংস্কৃতি নয়।

পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরান এবং এর মিত্র –যেমন: সিরিয়া, লেবানন- দেশসমূহের বিরুদ্ধে আরোপিত বিভিন্ন চাপ ও বয়কট হতে ফলাফল নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাগণ গত পরশু আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্যে আয়োজিত এক সভায় ইরানের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য এদেশের সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

ফরাসী বার্তা সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, বেশকিছু মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞ এ দেশের সরকারকে ইরানের নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে হত্যার প্রস্তাব দিয়েছে। যাদের কেউ কেউ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী’র কর্মকর্তা।

মার্কিন স্থলবাহিনী’র সাবেক প্রধান জ্যাক কিন উক্ত সভায় বলেন : কেন আমরা ইরানি কর্মকর্তাদেরকে হত্যা করছি না? তারা প্রায় ১ হাজার মার্কিনীকে হত্যা করেছে, কেন আমরা তাদেরকে হত্যা করছি না? সামরিক অভিযানের পদক্ষেপ নিতে বলছি না, কিন্তু গোপনে হত্যার অভিযানের প্রস্তাব রাখছি?

কাতারের আলজাজিরা ওয়েব সাইটও এ সংবাদ উল্লেখ করে লিখেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক, ইরানের উপর সৌদি রাষ্ট্রদূত হত্যার পরিকল্পনার মিথ্যা অভিযোগ আরোপের পর দু’দেশের মধ্যকার টানাপোড়ন আরো চরম আকার ধারণ করেছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের ঐ মিথ্যা অভিযোগকে তীব্রভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

ইরানের প্রসিডেন্ট ড. মাহমুদ আহমাদী নেজাদ যুক্তরাষ্ট্রের এহেন মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, টেরর এবং গুপ্তহত্যা তাদের বৈশিষ্ট্য যাদের কোন সংস্কৃতি নেই এবং যারা কোন যুক্তিতে বিশ্বাসী নয়।

তিনি বলেন, মার্কিন ও জায়নবাদী সরকার প্রতিদিন ইরানের বিরুদ্ধে পরিবেশ ঘোলাটে করার অপচেষ্টায়রত, আর এ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় তারা ইরানকে গুপ্তহত্যার মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত যে, টেরর (গুপ্তহত্যা) হচ্ছে সংস্কৃতহীন ও মার্কিনীদের কাজ।

মার্কিন এ কর্মকর্তা (জ্যাক কিন) উক্ত সভায় ইরানের উপর চাপ সৃষ্টির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। যদিও কিছু কিছ মার্কিন প্রতিনিধি ইরানের উপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঘোষণা করছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। কিন্তু তারা জ্যাক কিনে’র প্রস্তাবের বিষয়ে সমর্থন জানান নি।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী, তাদেরকে কাউকে হত্যা না করা অবধি তারা ভীত ও প্রভান্বিত হবে ;

অপরদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রাক্তন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রয়াল মার্ক গারচেট বলেছেন : যে পদ্ধতি ও নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তত্পরতা চালায় ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী সে পদ্ধতি ব্যবহার করে না। তাদের একজন হত্যা না করা অবধি তাদের মনে ত্রাস ও ভয় সৃষ্টি হবে না।

মার্কিন এ কর্মকর্তা সরাসরি ও স্পষ্ট ভাষায় ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী’র প্রধান জনাব কাসেম সুলায়মানী’র নাম উল্লেখ করে বলেন, তাকে গ্রেপ্তার অথবা হত্যা করতে হবে। কাসেম সুলাইমানী অনেক সফরে যায়… চোখ-কান খোলা রাখুন… তাকে গ্রেপ্তার অথবা হত্যা করার চেষ্টা করুন।

কিছুকিছু বিশেষজ্ঞের মতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের উপর বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি ও ইরানকে বয়কটের মাধ্যমে কোন ফল লাভ করতে না পেরে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অক্ষম হয়ে, বর্তমানে ইরানি কর্মকর্তা ও এদেশের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী’র কর্মকর্তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। আর এ কাজের জন্য তার একটি ওজুহাত খুঁজছে এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ইরানকে অভিযুক্ত করেছে। যাতে তারা এ বিষয়টিকে ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যার অজুহাত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।#